
যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি
শ্রীচণ্ডীর একাদশ অধ্যায়ে আগামীতে দেবী বিভিন্নরূপে আবির্ভূতা হওয়ার প্রতিশ্রুতির অন্তিমে দেবী এক শাশ্বত অভয়বাণী প্রদান করেন। এ সকল আসুরিক বাধা দূর করে ধর্ম সংস্থাপনের অভয়বাণীটি শ্রীমদ্ভগবদগীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বর্ণিত ধর্মসংস্থাপনে সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়। গীতায় বলা হয়েছে, জগতে অধর্মের বাড়বাড়ন্ত হলেই, ধর্ম সংস্থাপনের জন্য ভগবান স্বয়ং আবির্ভূত হয়ে সাধুদের পরিত্রাণ করবেন। গীতার মত সেই রূপ শ্রীচণ্ডীতে দেবীও বলেছেন:
ইত্থং যদা যদা বাধা দানবোত্থা ভবিষ্যতি ।
তদা তদাবতীর্য্যাহং করিষ্যাম্যরিসংক্ষয়ম্ ।।
(শ্রীচণ্ডী:১১.৫৪-৫৫)
“এই প্রকারে যখনই দানবদের প্রাদুর্ভাবে বিবিধ প্রকারের বিঘ্নবাধা উৎপন্ন হবে, তখনই আমি আবির্ভূতা হয়ে দেবশত্রু অসুরদের বিনাশ করব।”
যখনই দানবদের প্রাদুর্ভাব হবে, তখনই দেবী আবির্ভূতা হয়ে দুষ্ট অসুরদের বিনাশ করবেন।এই একই প্রকারের আশ্বাস আমরা শ্রীমদ্ভগবদগীতার মধ্যেও দেখতে পাই। সেখানে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সুস্পষ্টভাবে বলেছেন:
যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।
অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্।
পরিত্রাণায় সাধূনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্।
ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।।
(শ্রীমদ্ভগবদগীতা:৪.৭-৮)
“যখন যখনই ধর্মের গ্লানি হয়ে অধর্মের অভ্যুত্থান ঘটে, তখনই আমি নিজেকে সৃষ্টি করি, অর্থাৎ সাকাররূপে অবতীর্ণ হয়ে জনসমক্ষে প্রকটিত হই। এভাবেই যুগে যুগে সাধুদের পরিত্রাণ করি এবং দুষ্কৃতীদের বিনাশ করে ধর্মসংস্থাপন করি।”
যখনই ধর্মের গ্লানি এবং অধর্মের অভ্যুদয় হয়, তখনই দেবী নানা বেশ ধারণ করে, নানা রূপে আবির্ভূতা হন। অসুরদলনে নানা বেশ ধারণ করে, নানা রূপে আবির্ভূতা হওয়ার বিষয়টি শ্রীমদ্ভগবদগীতাতে তো রয়েছে, এর সাথে সাথে দেবীভাগবতের সপ্তম স্কন্ধের অন্তর্ভুক্ত ‘দেবীগীতা’ নামক শাক্ত গ্রন্থেও বর্ণিত হয়েছে।
যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভূধর।অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদা বেশান্ বিভৰ্ম্যহম্ ৷৷ দেবদৈত্যবিভাগশ্চাপ্যত এবাভবন্নৃপ৷৷
যে ন কুৰ্বন্তি তদ্ ধর্মং তচ্ছিক্ষার্থং ময়া সদা।
সম্পাদিতাস্তু নরকাস্ত্রাসো যচ্ছ্রবণাদ্ভবেৎ৷৷
(দেবীভাগবত: সপ্তম স্কন্ধ, ৩৯.২২-২৪)
“হে ভূধর! যে যে সময়ে ধর্মের গ্লানি এবং অধর্মের অভ্যুদয় হয়, অর্থাৎ শ্রুতি-স্মৃতির নির্দিষ্ট ধর্ম-কর্ম পরিত্যাগ করে অপর শাস্ত্রগ্রন্থ আশ্রয় করে ধর্মের নামে অধর্ম করতে শুরু করে তখনই অধর্মকে বিনাশ করতে ভূমণ্ডলে আমি আসি নানা বেশ ধরে, নানা রূপে আবির্ভূতা হই।
বেদে আমার অনুশাসন মেনে যারা ধর্মকর্ম করে না, তাদের শিক্ষার জন্যই আমিই সৃষ্টি করেছি নানারকমের নরক। সেইসব নরকের কথা শুনলে ভয়ে তাদের চিত্ত অবশ হয়ে যাবে।”
বিভিন্নরূপে দেবী এ জগতে আবির্ভূতা হবেন সাধুদের রক্ষার্থে এবং অসুরদের বিনাশে। শ্রীচণ্ডীতেই দেবীকে মহীস্বরূপা বা পৃথিবীস্বরূপা বলা হয়েছে। জগতে বিভিন্নরূপে তিনি আসবেন।
© The Digital Millennium Copyright Act (DMCA) protects original digital text, images, and media under U.S. law through a notice-and-takedown framework. Copyright ownership is automatic upon creation, meaning text does not need formal registration to qualify for a DMCA removal request if copied without permission.
